রায়পুরে গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু স্বামী আটক

লক্ষ্মীপুর দিগন্ত ডট কম (রায়পুর) ২মে: লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ চরবংশী ইউনিয়নের চরকাছিয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার (২ মে) ভোরে তিন মাসের অন্তস্বত্ত্বা রাবেয়া খাতুন (২৫) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে স্বামী শামছুদ্দিন হাওলাদারকে (৩০) পুলিশ আটক করেছে। সে একই গ্রামের সাখাওয়াত উল্যা হাওলাদারের ছেলে। এ নিয়ে নিহতের বড় ভাই মনির হোসেন বাদি হয়ে ৪ জনকে আসামী করে রায়পুর থানায় মামলা করেন।
হাজীমারা ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সকাল ৭টায় রাবেয়া খাতুনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে।
নিহত রাবেয়ার পিতা কৃষক মোহাম্মদ উল্যা জানান, প্রায় ৭ বছর আগে চরকাছিয়া গ্রামের সাখাওয়াত উল্যা হাওলাদারের ছেলে শামছুদ্দিন হাওলাদারের সাথে তার মেয়েকে বিয়ে দেন। বিয়ের সময় মোহাম্মদ উল্যা তার মেয়ের সুখের জন্য নগদ টাকাসহ বিভিন্ন উপকরণ উপহার দেন। গত একমাস পূর্ব থেকে পিতার বাড়ি থেকে ৫০ হাজার টাকা এনে দেয়ার জন্য শামছুদ্দিন তার স্ত্রী রাবেয়াকে মানুষিক ও শারীরিক নির্যাতন করে আসছিল। মেয়েটির ৫ বছরের একটি কন্যা সন্তান রয়েছে এবং তিন মাসের অন্তস্বত্ত্বা ছিল। বৃহস্পতিবার ভোরে রাবেয়া ও শামছুদ্দিনের মধ্যে ঝগড়া হয়। শামছুদ্দিন রাবেয়াকে লাঠি দিয়ে বেধম মারধর করে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে পালিয়ে যায়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
পুলিশ সকাল ৯টায় অভিযান চালিয়ে মেঘনা নদীর পাড়ের পানির ঘাট এলাকা থেকে শামছুদ্দিনকে আটক করা হয়।
থানায় আটক শামছুদ্দিন জানান, ভোরে সাংসারিক দুই একটি কথা মধ্যে আমাদের একটু ঝগড়া হয়েছে। আমি কাজের উদ্দেশ্যে চরে গেলে এসময় রাবেয়া গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। আমি তাকে হত্যা করিনি।
রায়পুর উপজেলার হাজীমারা স্লুইচগেট ফাঁড়ি থানার ইনচার্জ (এসআই) আবদুল খালেক জানান, ঘটনা শুনে পার্শ্ববর্তী একটি খালের পাড়ের গাছ থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় রাবেয়ার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অভিযান চালিয়ে শামচ্ছুদ্দিনকে চরাঞ্চল থেকে আটক করা হয়। এলাকাবাসী থেকে শুনেছি যৌতুকের জন্য মেয়েটিকে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানা রাবেয়ার বড় ভাইয়ের দায়ের করা মামলাটি তদন্ত চলছে।

নিউজ: এডমিন

About Lakshmipur Diganta