1. admin@lakshmipurdiganta.com : dipu :
  2. mostaqlp@gmail.com : লক্ষ্মীপুর দিগন্ত : লক্ষ্মীপুর দিগন্ত
  3. shafaatmahmud4@gmail.com : Shafaat Mahmud : Shafaat Mahmud

লক্ষ্মীপুরের-মেঘনার চরে আমন ধান-সয়াবিন পানিতে : উদ্বিঘ্ন কৃষক পরিবার

  • আপডেট সময় রবিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ২১৮ দেখা হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদের প্রভাবে পানি বৃদ্ধি ও বৃষ্টিতে লক্ষ্মীপুরের রায়পুর ও রামগতির মেঘনার চরাঞ্চলে প্রায় ৮০ হাজার কৃষক পরিবার উদ্বিঘ্ন রয়েছেন। মেঘনা উপকূলীয় চরে হাজার হাজার হেক্টর জমির আমন ধান, সয়াবিন ও সরিষাসহ শীতকালিন সবজি পানিতে ডুবে যাওয়ায় চাষিদের মাথায় হাত। এ ছাড়া ঝড়ো হাওয়ার কারণে জেলেদের নৌকা ও ট্রলার মেঘনা নদীসহ সংযোগ খালে নিরাপদে আশ্রয় নেয় তারা।

 

রায়পুরে চরবংশি ইউপির হামিদ মাঝি মোবাইল ফোনে জানান, রোববার রাতে ঘূর্ণিঝড় জাওয়াদ রায়পুরের মেঘনার চরাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। এ সময় প্রবল বর্ষণের সঙ্গে মেঘনার পানি বেড়ে ৩-৪ ফুট উচ্চতায় ওঠে। এতে উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিন চরআবাবিল ইউনিয়নের চরের জমির ধান ডুবে যায়। পানিতে প্রচুর আমন ধান ভিজে ও বিপুল পরিমাণ সয়াবিনসহ শীতের সবজি নষ্ট হয়েছে।।

 

উত্তর চরবংশি ইউপির আলতাফ মাষ্টার মাছঘাট তত্বাবধায়ক জাহাঙ্গির আলম জানান, শনি ও রোববার রাতে মেঘনার চরে ৩-৪ ফুট পানির নিচে ডুবে যায়। উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী, উত্তর চরআবাবিল ও দক্ষিন চরআবাবিল ইউপির চরইন্দ্রুরিয়া, চরপাঙ্গাসিয়া, চরজালিয়া, চরকাছিয়া, চরপক্ষি, উপকূলীয় এলাকা তিন ফুটের বেশি পানির নিচে ডুবে যায়। ফলে আমন ধান, সয়াবিন, সরিষাসহ শীতকালীন সবজি পানিতে নষ্ট হয়েছে।

 

রায়পুরে কৃষি কর্মকর্তা জোবায়ের আহাম্মদ জানান, তিন ইউনিয়নের মেঘনার চরাঞ্চলে ১১ হাজার ৫’শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়। তার মধ্যে প্রায় ৭হাজার হেক্টর ধান পানিতে ডুবে আছে। দেড় হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিনের মধ্য প্রায় ১হাজার হেক্টর এবং ৩’শ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদের মধ্যে ২’শ হেক্টর সহ শীতকালীন শাকসবজিও পানিতে ডুবে।

 

আরো ৩/৪ দিন নিন্মাঞ্চল প্লাবিত থাকে তাহলে প্রায় ৪০ হাজার কৃষক পরিবার চরম ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। আমরা আরো কয়েকদিন অপেক্ষা করবো।তারপর তালিকা করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠাবো।।

 

রামগতি উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলা জুড়ে ২৫ হাজার ৬’শ হেক্টর জমিতে আমন ধানের চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে যথা সময়ে ধান কাটার ব্যবস্থা না করায় ২০ হাজার হেক্টর ধান পুরো কিংবা আংশিক পানিতে ভাসছে। সব সময় ধান ৮০ শতাংশ পাকলেই কাটার ব্যবস্থা করার জন্য কৃষককে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। এবার বৃষ্টির কবলে পড়তে হয়েছে। উপজেলার প্রায় ১হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা হয়ে গেছে। ১হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা অবস্থায় জমিতে রয়েছ। অবশিষ্ট ধান ক্ষেতে পাকা এবং আধা পাকা অবস্থায় রয়েছে।

 

অন্যদিকে, খড় বিক্রিতেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন কৃষকরা। এ মৌসুমে প্রতি গন্ডা জমির খড় ৭শ থেকে ৮শ টাকায় বিক্রি করছেন তারা। বৃষ্টিতে ভিজে যাওয়ায় এখন বাজার মূল্য ৩শ থেকে ৪শ টাকায় এসে দাঁড়িয়েছে। এভাবে পানিতে আরো দু তিনদিন থাকলে বিক্রির অযোগ্য হয়ে যাবে খড়।

 

রামগতি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আতিক আহমেদ জানান, বৃষ্টির পানিতে ডুবে থাকা কিংবা আংশিক পানিতে থাকা ধান ক্ষেতের পানি দ্রুত নিষ্কাশনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অপেক্ষাকৃত উঁচু স্থানে কাটা ধান সংরক্ষন করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশা করি কৃষকরা উপকৃত হবেন।

শেয়ার করুন

এই বিভাগের আরো খবর

© All rights reserved © 2021

Customized BY NewsTheme